আকাশ ভরা মেঘ, একটু পরেই নামতে পারে মুষলধারে বৃষ্টি। এই আবহাওয়ায় সবাই যখন বাড়ি যাওয়ায় ব্যাস্ত তখন একটি ছেলে মাথা নিচু করে বসে আছে পার্কের বেঞ্চে। নাম তার ইফতি। শ্যামল বর্ণের এই ছেলেটির মুখটি দেখলেই নিষ্পাপ নিষ্পাপ লাগে।তার মাথায় ছোট করে ছাটা চুল খানিকটা কোঁকড়া আর চোখে মাঝারি কাল ফ্রেমের চশমা। চেহারার মতই স্বভাবে সে একেবারে একজন সরল প্রকৃতির মানুষ। জগতের নানা প্যাঁচ ঘোঁচ তাহার মাথায় আসে না। বাড়িতে তাকে কড়া শাসনে রাখা হয়। তাই বিবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী দীর্ঘকাল অন্যের কথায় উঠবস করার ফলে এখন নিজে থেকে সে খুব একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এব্যাপারে খুব সামান্য একটি উদাহরণ দেয়া যাক। যদি কেউ তাকে এমন কিছু করতে বলে যা তার পছন্দ না তবুও অন্যের কথায় ভুলে গিয়ে র্নির্দিদ্ধায় সে সেই কাজটি করে যায়।
যাহোক আবারও আজকের দিনে ফিরে আসা যাক। পার্কের বেঞ্চে একা বসে থাকার পিছনে কারণ হল আজ তার মন খুব খারাপ। কেননা ভার্সিটির ল্যাবের পরীক্ষায় আজ সে খুব খারাপ করেছে। সার তাকে যেই প্রোগ্রাম করতে বলল তা সে বুঝনি। এরপর সার যখন তাকে প্রশ্ন করল ইফতি এটা কি করছ তুমি ? তখন সে আমতা আমতা করে আর কিছু বলতে পারল না। এ দেখে নিতুর সে কি হাসি।
নিতু হল ইফতির বন্ধু। দেখতে শুনতে ভাল ও সেসাথে রুপবান এই মেয়েটিকে ইফতির খুব পছন্দ। কিন্তু নিতুর ব্যবহার দেখে ইফতি বুঝতে পারে না আসলে নিতু তাকে পছন্দ করে কিনা। মাঝে মাঝেই নিতু তার সাথে খুবই আন্তরিক হয়ে কথা বলে , ক্লাসেও একসাথে বসে আবার কখনো কখনো সে এমন ব্যবহার করে যেন ইফতিকে বুঝি সে আগে কখনো দেখেনি। তবুও ইফতি দমবার পাত্র নয়। নিতুর সাথে কিভাবে আরো সম্পর্ক বাড়ানো যায় এ নিয়ে সে প্রায় প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা শুধু চিন্তা করেই কাটিয়ে দেয়। আর এই নিতুই কিনা আজ তার সাথে এমন ঠাট্টা করল।
ঘটনাটা মনে পড়ায় আবারো ইফতির মনটা দুঃখে ভরে গেল। একটানা বসে থাকতে আর মন চাইল না। তাই সে উঠে পার্কেই মাটির দিকে তাকিয়ে খানিকটা হাটাহাটি শুরু করল। তবে মাঠের মধ্যে সামনে অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে প্যান্ডেল লাগানোর জন্য কাজ চলছে ফলে কিছু কিছু জায়গায় অনেক বড় গর্ত করা হয়েছে। মনে মনে নানারকম স্বপ্ন বুনতে বুনতে হুট করেই ইফতি একটি গর্তের পাশে এসে ধাক্কা খেয়ে পড়ল । কিসের সাথে ধাক্কা খেল দেখতে গিয়েই ইফতির চোখে পড়ল একটি অদ্ভুত আকারের শিশির। এরকম কোন শিশি সে আগে দেখেনি। বহুবছর মাটির নিচে পড়ে থেকে এতে প্রচুর ময়লা লেগে থাকলেও এর আকারের জন্য আর সব বোতল কিংবা শিশি থেকেই এটি সম্পূর্ণ আলাদা। এর উপরে শিশির মুখটি একটি কর্ক দিয়ে আটকানো। এই অদ্ভুত শিশি দেখে ইফতির ইচ্ছে হল ভিতরে কি আছে তা খুলে দেখার।
বোতলটি খুলতেই হুট করে যেন চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল। একপলকা ঠান্ডা বাতাস ইফতির চারদিকে প্রবাহিত হওয়া শুরু করল। এ দেখে ইফতির বিষ্ময়ের কোন সীমা রইল না। তার সাথে যে খুব বাজে কিছু ঘটতে চলেছে এ ব্যাপারে সে নিশ্চিত। এসময় হঠাত তার হাতের শিশিটি কাঁপতে শুরু করল। তার ভিতর থেকে জ্বলন্ত কয়েলের মত ধোঁয়ার কুন্ডলি বের হতে থাকল। এরপর সেই ধোঁয়ার কুন্ডলি ধীরে ধীরে এক অশরীরি মানুষের আকার ধারণ করল। এবার ইফতির আর বুঝতে বাকি রইল না যে এই শিশির ভিতর বহুকাল ধরে আটকে ছিল এক জ্বীন।
হঠাত জ্বীনের আগমনে ইফতির শরীর মনের অজান্তেই কেঁপে উঠল। তার পড়নের ঢোলাঢালা মোবাইল পকেটের প্যান্ট থাকলেও তার পায়ের এই কম্পন বাহির থেকে স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে। খুবই শংকিত অবস্থায় একবার সে ভাবল ঘুরে এক দৈড়ে বাসায় চলে যাবে। কিন্তু তখন তারকাছে মনে হল তার পায়ের ওজন যেন আস্ত একটা ট্রাকের মত ভার। এবার ভয়ার্ত দৃষ্টিতে সে একবার অবয়বটির মুখের দিকে তাকাল। দেখল জ্বীনটির গায়ের রং অনেকটা শ্যাওলার মতন সবুজাভ। প্রস্থে তার শরীর কম হলেও হাতগুলো লাউয়ের ডগার মত সরু। জ্বীনটির মাথাটিও আঁকারে কিছুটা ছোট। মজার ব্যাপার হল জ্বীনটির মাথায় কোন চুল নেই, সেখানে আছে মস্ত বড় একটি টাক। তার ঠোটগুলো স্বরু ও মুখভর্তী মাঝারি সাইজের দাড়ি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল ইফতির মত সেই জ্বীনটির চোখে মুখেও রয়েছে আতংকের ছাপ। এই নিরবতা কয়েক মুহুর্ত বজায় থাকল। এরপর প্রথমে জ্বীনই প্রথম কথা বলা শুরু করল।
জ্বীনিঃ তুমি কে? তোমাকে কি ফকির সাহেব পাঠিয়েছে ?
এই প্রশ্ন শুনে ইফতি অবাক হল। কাঁপাকাঁপা গলায় সে বললঃ ফ-ফ-ফকির সাহেব কে?
জ্বীনিঃ বুঝেছি সে তোমাকে পাঠায়নি। এখন বল ত কত সাল চলে?
ইফতিঃ এখন ২০১৯ সাল।
জ্বীনিঃ কি ২০১৯ এ কি বলছ। আমি কে চিন? আমার সাথে এতবড় মশকরা।
ইফতিঃ আমি কেন আপনার সাথে মশকরা করতে যাব ।
জ্বীনিঃ তোমার কাছে কোন প্রমাণ আছে যে এটা ১৪০০ সাল না?
ইফতিঃ আমার মোবাইলে দেখতে পারেন এটা আসলেই ২০১৯ কি না।
জ্বীনিঃ মোবাইল সেটা আবার কি?
তখন ইফতি তার প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইলটি বের করে জ্বীনিকে দেখাল।
এবার জ্বীনটি বুঝতে পারল সে আর তার সেই আগের ভুবনে নেই। হঠাত করেই জ্বীনটিকে অনেকটা সংকামুক্ত দেখাল। সে একটি মুচকি হাসি দিয়ে বলল যাক এতদিন ওই নাক লম্বা হারামজাদাটা তাহলে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে। এরপর সে তার ডান হাত কিছুটা পোলিও রোগীর মত বাঁকিয়ে একটি তুড়ি বাজাতেই ইফতি দেখল হঠাত করেই জ্বীনটির মাথায় একটি রুমাল এসে গেল। রুমালটি খুবই অদ্ভুতভাবে জ্বীনটির মাথায় বাধা। সামনে থেকে দেখতে এটি আজকালকার শেফদের মাথার টুপির মত লাগে কিন্তু তার উপরের দিকটি সম্পূর্ণ ফাঁকা। আর পিছনের দিকে যেখানে গিট দেয়া তাতে মাথার টাক অনেকটাই দেখা যায়। রুমালটি ঠিকমত তার মাথায় বাধা থাকার পরেও জ্বীনি বারবার তার টুপিটিতে হাত বুলিয়ে দেখে নিচ্ছে।
খানিকক্ষণ এভাবে চলার পর জ্বীনি প্রশ্ন করলঃ তোর নাম কি?
এবার জ্বীনির কণ্ঠস্বরে ভয়ের পরিবর্তে হুকুমের মত কথাটি বের হল।
ইফতিঃ আমার নাম ইফতি।
জ্বীনিঃ ইফতি এ আবার কেমন নাম। আচ্ছা তুই আমাকে এতদিন পর মুক্তি দিয়েছস তাই তোর জন্য একটা পুরষ্কার আছে।
পুরষ্কারের কথা শুনে এবার ইফতিও আর আগের মত ভয় অনুভব করল না।
এবার সেই একটা প্রশ্ন করে বসলঃ আচ্ছা আমাকে কি উপহার দিবেন?
জবাবে জ্বীনি বললঃ তোর তিনটা ইচ্ছা পূরণ করে দিব। তবে এরপর আর কখনো কিছু চাইতে পারবি না। চাইলে এক বন মেরে তোর বাপ দাদা চৌদ্দ গোষ্ঠির নাম ভুলিয়ে দিব।
জবাব শুনে ইফতি খুশি হয়ে জ্বীনির কাছে কি চাওয়া যায় এ নিয়ে ভাবা শুরু করল। সাধারণ মানুষের চাহিদার কোন শেষ নেই, এই চাহিদাও আবার সবসময় একইরকম থাকে না। যেমন কারও একসময় হয়ত একটা বাইক কিনার ইচ্ছা থাকে যা কিনা খুশির ঠেলায় ঘুরতে করতে করতে গাড়ি কিনার ইচ্ছায় পরিবর্তন হয়ে যায়। এমনিতে ইফতি ভদ্র স্বভাবের ছেলে হলেও তার চাহিদা লিস্ট করে রাখলে এক দুই টেরাবাইটের হার্ড্ডডিস্কে তা জায়গা নিত না। কিন্তু এখন যখন সে জ্বীনির কাছে কিছু চাইতে যাবে তখন তার মনে হল কে জানি তার চাহিদার হার্ডডিস্কের সব ডাটা একেবারে ফরমেট মেরে দিয়েছে। কিছুক্ষণ ভেবেও যখন সে কোনকিছু ভেবে পেল না তখন হুট করে তার মাথায় আসল আচ্ছা এই জ্বীনি কিভাবে এখানে আটকা পড়ল তা জানতে পারলে মন্দ হত না।
যেই চিন্তা সেই কাজ সে জ্বীনিকে প্রশ্ন করলঃ আচ্ছা আপনি কিভাবে এই শিশিতে বন্দি হয়েছিলেন সেটা বলেন ।
প্রশ্নটি শুনে জ্বীনি তার মুখ কিছুটা বিকৃত করে বললঃ এটা জেনে তুই কি করবি।
আমতা আমতা করে ইফতি বললঃ এমনিই। আপনি যেহেতু অনেক বছর ধরে এই শিশিতে আটকে ছিল তাই আপনার এই কাহিনীটি জানার খুব ইচ্ছা করছে।
জ্বীনিঃ আচ্ছা যেহেতু তোকে কথা দিয়েছি তাই বলছি। ঘটনাটা কিন্তু অনেক বড় মনযোগ দিয়ে শুনবি।
এবার জ্বীনি তার গল্প বলা শুরু করলঃ আজ থেকে অনেক বছর আগে যখন এখানে মুঘল রাজা বাদশাহরা রাজত্ব করত সেসময় এখানে এক সুফি সাধকের আস্তানা ছিল। নাম তার ফাহিমোদ্দৈল্লাহ। সে ছিল ভিষণ চালাক আর অত্যন্ত খুঁতখুঁতে স্বভাবের। আর সেসময় আমি ছিলাম জ্বীনদের বাদশাহ জ্বীনি পাপিন। অশুরের মত শক্তিশালী ও ভীষন সাহসী হওয়ার জন্যই আমি হয়েছিলাম জ্বীনদের বাদশাহ। আমার অধীনে তখন ৩০০-৪০০ জ্বীন সর্বদা আমার হুকুম তামিলের জন্য প্রস্তুত থাকত। পরীদের নিকট আমি ছিলাম খুবই জনপ্রীয়। মাঝে মাঝেই আমি পরীদের নিয়ে বিভিন্ন দেশে গিয়ে নামিদামি মিস্টান্ন খেতে যেতাম। একসময় ফাহিমোদ্দৈল্লাহ আমাকে এক দুষ্ট জ্বীনকে সায়েস্তা করার কথা বলেছিল। তার কথামত আমি সেই জ্বীনিকে সায়েস্তা করতে যাই। তার আস্তানায় হানা দিতেই আমাদের দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। তবে আমার শক্তির সাথে সে পেরে উঠেনি। ক্ষানিকক্ষন যাবার পরেই তার দম ফুড়িয়ে যায় কিন্তু শেষ দম নিয়ে সে এমন একটি কাজ করে ফেলে যা আমি একেবারেই পছন্দ করি না। হুট করেই সে আমার শাহী রুমালটি মাথা থেকে খুলে অপবিত্র মাটিতে ফেলে দেয়। এই অসম্মান দেখানোর পরেই রাগে আমার শরীরের সব রক্তই টগবগিয়ে ফুটে উঠে আর সে অবস্থাতেই তাকে ফাইদাফাই করে ফেলি।
এরপর সুফি সাহেবের দরবারে গিয়ে যখন সেই জ্বীনিটির মরার সংবাদ দিলাম অমনি তিনি খুব রেগে গেলেন। বললেনঃ আমি তোমাকে বলেছিলাম তাকে কিছুটা মেরে ছেড়ে দিতে আর তুমি কিনা তাকে প্রাণেই মেরে ফেললে। সে আমার অধীনের একজন ছিল তবে সে আমাকে না জানিয়ে এক অপরাধ করে ফেলেছিল আর তাই তাই শায়েস্তা করতে তোমাকে পাঠিয়েছিলাম। তোমাকে এটা বারবার বুঝিয়েও বলেছিলাম। তোমার কি মাথায় ঘিলু নেই? এই রুমালের ভিতরে কি আস্ত গোবর ছাড়া আর কিছু নেই?
তার এই কথা শুনে আবারও আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত রক্ত টগবগিয়ে উঠল। গেলাম তার ঘাড় মটকে দিতে কিন্তু চতুর নাকলম্বা সুফিটা আমার মনের কথা বুঝে গেল আর সাথে সাথেই তার পাশে থাকা শিশিটায় মন্ত্র পড়ে আমাকে বন্দি করে ফেলল। আর তার এক অনুচরকে দিয়ে শিশিটা ফেলে আসতে বলল। এভাবেই আমি এখানে বছরের পর বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছিল।
এবার জ্বীনি পাপন জিজ্ঞেস করলঃ তোর দ্বিতীয় ইচ্ছা কি সেটা বল
এই কথা শুনে ইফতি হঠাত আকাশ থেকে পড়ল। কেননা এখন সে কি চাইবে তা বুঝে উঠতে পারছে না। খানিকক্ষন চিন্তা করার পর যখন সে কোন উপায় বের করতে পারল না তখন হুট করে তার মাথায় আসল আচ্ছা জান্নাতুল মান্নানকে এখন জিজ্ঞেস করলে ভাল হবে না? যেই চিন্তা সেই কাজ। সে সাথে সাথেই ফোন দিল মান্নানের কাছে। মান্নান তখন সবেমাত্র ভার্সিটির ক্লাস করে বের হয়েছে। এই মুহুর্তে ইফতির ফোন দেখে সে বিরক্ত। কেননা পরীক্ষার পর থেকেই ইফতির আর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
এবার মান্নান সম্পর্কে একটি বিস্তারিত বিবরণ বর্ণনা না করলেই নয়। মান্নান হল ইফতিদের ক্লাসের সেরা স্টুডেন্ট । তার হাই সিজি থাকলেও সে বাকি সব হাই সিজি ওয়ালাদের মত আতেল স্বভাবের নয়। আঁকারে লম্বা ও ছিপছিপে শরীর, গাত্রবর্ণ শুভ্র, প্রসস্থ ললাট, মুখে ট্রিম করে ছাটা চাপদাড়ি আর চোখে কাল ফ্রেমের চশমা। তার স্বভাবের কাঠিন্য তার সমস্ত শরীরময় ফুটে উঠে এমনকি তার চলাফেরায়ও রয়েছে এই কাঠিন্যের ভাব। একারণে সবাই তাকে খুব সমীহ করে চলে। যাহোক এবার ইফতি ও মান্নানের কথোপকথনে ফিরে যাওয়া যাকঃ
মান্নান রাগি স্বরে ফোন ধরে বললঃ বল কি বলবি।
ইফতি বললঃ আচ্ছা মান্নান আমি না একটা জ্বীনি এর সাথে আছি আর জ্বীনি আমার দুইটা ইচ্ছা পূরণ করে দিবে। এখন বল ত তার কাছে কি চাওয়া যায়?
প্রশ্ন শুনে মান্নানের আর বুঝতে বাকি রইল না যে তার এই বোকা বন্ধুর মাথা আজ একেবারেই গেছে। সাথে সাথেই সে ইফতিকে একটি বড়সড় ঝাড়ি দিয়ে বলল ফাইজলামির আর জায়গা পাস না?
ইফতি বললঃ না আমি সত্যি বলছি।
কিন্তু জগতের নিয়ম হল দুর্বলকে কখনো বিশ্বাস করতে নেই। তাই বিরক্তির সাথে মান্নান জিজ্ঞেস করলঃ তুই এখন কই আছস?
জবাবে ইফতি বললঃ আমি এখন বাসার সামনের মাঠে। আচ্ছা বল না কি চাওয়া যায়?
আকাশের দিকে একবার তাকিয়ে মান্নান জবাব দিলঃ বল এখন যাতে বৃষ্টি না আসে।
এবার ইফতি জ্বীনি পাপনকে বললঃ আপনি কি এখন বৃষ্টি বন্ধ করে দিতে পারবেন?
জ্বীনি পাপন বললঃ এটা কোন ব্যাপার হল।
এবার জ্বীনি পাপন তার ডান হাত তুলে দু আংগুল দিয়ে তুড়ি বাজাতেই হঠাত করে আকাশের সব কাল মেঘ যেন উঠাও হয়ে গেল। এরপর স্বভাবমত সে আবার অযথাই নিজের টুপি ঠিক করায় ব্যাস্ত হয়ে গেল।
ঠিক এসময় হুট করে মেঘমুক্ত আকাশ দেখে মান্নান ও তার সাথের থাকা তার বন্ধুরা সবাই বিষ্মিত হয়ে গেল। মান্নান তাড়াতাড়ি নিজেকে সামলে নিয়ে বলল দেখস কান্ড আমার এক ঝাড়ি খেয়ে সব মেঘ এখন আকাশ থেকে বিদায় নিয়েছে। তার এই কথায় কোন যুক্তি না থাকলেও তার সাথের সকল বন্ধু এটা বুঝা সত্ত্বেও তার কথার কেউ প্রতিবাদ করল না। আর মনে মনে মান্নানের এই ইশ্পাত কঠোরতায় মুগ্ধ হল।
এখন ইফতির শেষ ইচ্ছের পালা। ইফতি কি চাওয়া যায় সেব্যাপারে সে তার পেন্টিয়াম প্রসেসর সমৃৃদ্ধ মস্তিষ্ক নিয়ে গভীর চিন্তা করা শুরু করল। জীবনে কি পেয়েছে তার কি কমতি আছে সেব্যাপারেও ক্ষানিকটা ভেবে নিল।
কিন্তু এতক্ষণে জ্বীনি পাপনের ধৈর্যের বাধ ভেংগে গেল। সে ইফতিকে ধমক দিয়ে বলল রাখ তোর ইচ্ছে আমি গেলাম চলে। একথা শুনার পর ইফতি হঠাত কিংকর্তব্যবিমুড় হয়ে গেল। তার মস্তিস্কে তখন একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছিল যেভাবেই হোক জ্বীনি পাপনকে আটকিয়ে তার ইচ্ছাটা পূর্ণ করতে হবে। সে জ্বীনি পাপনকে সে কড়া গলায় বলল থাম। আমাকে এক কোটি টাকা দেও। তবে কথাটা সে তার মুখ দিয়ে বের হয়নি, তার মস্তিষ্ক তখন কল্পনায় এই কথাগুলো তাকে দিয়ে বলিয়ে নিল। কেননা জ্বীনি পাপনের মত দৈত্যদের থামানোর ক্ষমতা সামান্য ইফতির মত মানুষের নেই।
দিনশেষে ইফতির মত মানুষেরা বাড়ি ফিরে যায় আধো বুকে কস্ট ও আধো বুক স্বপ্ন নিয়ে। তাদের অধিকাংশ স্বপ্ন সবসময় স্বপ্নেই থেকে যায় তবু স্বপ্ন দেখা কখনো থেমে যায় না। এই একরাশ স্বপ্নই আমাদের ভবিষ্যতকে চালিয়ে নিয়ে যায়।
Khub bhalo laaglo.
ReplyDelete